Monday , March 1 2021

ঘটা করে পালিত হয় বউ চুরির উৎসব, পরের স্ত্রী নিয়ে পা’লানোই এখানে রীতি

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালিত হয় বিভিন্ন রীতি। যার অনেক কিছুই আমাদের কাছে একেবারেই স্বাভাবিক নয়। আমাদের কাছে যা অস্বাভাবিক সেগুলোই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটা করে পালন হয়।বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোতে যেসব উপাজাতিরা রয়েছে।

তাদের মধ্যেই এমন উদ্ভটসব রীতিনীতি পালনের সংস্কৃতি। তেমনই এক উৎসব বউ চুরি। খানিকটা অবাক হলেও এটি সত্যি। এই চুরিতে নেই কোনো শাস্তি। কেউ আপনাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচারও করবে না।অন্যের বউ নিয়ে পালানোই এই উৎসবের উদ্দেশ্য

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালন করে আসছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের যাযাবর পশুপালক উপজাতি ওডাআবে। যেখানে অন্যের বউকে চুরি করে থাকে পুরুষরা। তাই এই উৎসবের নাম ‘বউ চুরির উৎসব’।

প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাস এলেই দেশটির বিভিন্ন মরুদ্যানে উৎসবটি পালিনের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। টানা সাতদিন ধরে চলা এই উৎসব। উৎসবে অন্যের বউকে চুরি করার চেষ্টা করে পুরুষরা।

এতে অংশ নেয় তাদের স্ত্রীরাও। পাশাপাশি চলে খাওয়া-দাওয়া ও নাচ গান। তবে উৎসবের দিনক্ষণ ও স্থান আগে থেকে ঠিক করা থাকে না। উৎসবের কিছুদিন আগে তা ঘোষণা করা হয়।

শত শত বছর ধরে সেপ্টেম্বর মাসে তারা পালন করে আসছে গেরেওল উৎসব। এই উৎসবের জন্য নারীরা একেবারে মুখিয়ে থাকেন। উৎসবে নিজেদের পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গী বাছাই করে নেন তারা।

এই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান হলো- ইয়াকে প্রতিযোগিতা। এটি হলো পুরুষের প্রজনন নৃত্য প্রতিযোগিতা। ময়ূর যেমন সঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করতে প্রজন্ন নৃত্য করে তেমনি ওডাআবে উপজাতি পুরুষরাও নৃত্য পরিবেশন করে।

পুরুষেরা নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে এখানে মূলত এই উৎসবের মাধ্যমে ওডাআবে সমাজের নারী-পুরুষরা একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙ্গার সুযোগ পান। বিভিন্ন ধর্মে এসব বিষয়ে আইনি ও সামাজিক জটিলতা থাকলেও ওই উপজাতির ক্ষেত্রে কোনো রাখঢাক নেই।

এছাড়া ওডাআবে উপজাতির মেয়েরা বিয়ের আগে যার সঙ্গে ইচ্ছে সম্পর্কে যেতে পারে। আবার বিয়ের পরও তারা যত খুশি স্বামী রাখতে পারেন।গোষ্ঠীপতি শাসিত ওই সমাজে মেয়েরা বিয়ের আগে যে কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে পারে।

এমনকি বিয়ের পরেও রাখতে পারে একাধিক স্বামী। এটিই তাদের জন্য সমাজ স্বীকৃত ও স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রাচীনকাল থেকেই এখানকার সমাজে অবাধ যৌনতার সুযোগ পান নারী পুরুষ সবাই। বি

য়ের আগেই উপজাতি নারীরা যে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন। চাইলে সেই পুরুষকে বিয়ে করতেও পারেন না চাইলে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবেন। এমনকি বিয়ের পরও যতখুশি স্বামী রাখতে পারবেন এখানকার নারীরা।

নারীদের আকৃষ্ট করতে নৃত্য পরিবেশন করে পুরুষেরা লম্বা ও সুঠাম চেহারার ওডাআবে পুরুষেরা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে সাজগোজ করে। লাল মাটি দিয়ে তৈরি করা রঙ মুখে মেখে নেয়।

নিজেদের তৈরি করা আইলাইনার লাগিয়ে নেয় চোখকে সাদা দেখানোর জন্য । ঠোঁটে লিপস্টিকও ব্যবহার করে দাঁতকে ঝকঝকে সাদা দেখাতে। রোমানদের মতো খাড়া নাকগুলোর তীক্ষ্ণতা আরো বাড়ানো হয় , নাকের ওপর সাদা কিংবা হলুদ রেখা টেনে নেয় তারা।

মাথার চুলে বিনুনি করে , সেই বিনুনিতে পুঁতি ও কড়ি গাঁথা হয়। নিজেকে আরো লম্বা দেখাতে মাথার চুলে উটপাখির পালক গাঁধে পুরুষেরা ।এমন যত্ন করে পুরুষেরা নিজেকে সাজায় , দেখে মনে হয় কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নামতে যাচ্ছে তারা।

এই সব কিছুর মূল উদ্দেশ্য থাকে পরস্ত্রীর নজর কাড়া। মজার ব্যাপার হল, সাজগোজের পর প্রত্যেক পুরুষকে একইরকম দেখতে লাগে । কালো , হলুদ ও সাদা রঙ মাখা একই ধরনের সরু মুখ আর বড় বড় চোখ।

আলাদা করে বোঝার উপায়ই থাকে না যে, পুরুষটি কোন দলের । তাই ইয়াকে প্রতিযোগিতার ময়দানে পরস্পরকে টেক্কা মারতে হয় নৃত্যে ফুটিয়ে তোলা যৌন আবেদন দিয়ে।

নারীরাও তাদের পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গী খুঁজে নেয় এই প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভূমিকা পালন করে উপজাতির সেরা তিন সুন্দরী। তাদের অবশ্যই বিবাহিতা হতে হবে। প্রতিযোগিতার শেষে তাদের চোখে সেরা পুরুষ বেছে নেয় বিচারকেরা।

বিচারকদের রায়ে যৌন আবেদনের দিক থেকে সেরা তিন পুরুষ, সমবেত পরস্ত্রীদের মধ্যে থেকে বেছে নিতে পারে তার পছন্দ সই নারী । এমনকি বেছে নিতে পারে বিচারকদের মধ্যে থেকে কাউকেও। ওডাআবে সমাজ এই অবিশ্বাস্য কাণ্ডটিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয়।

প্রস্তুতি সমাপ্ত হওয়ার পর শুরু হয় এই অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। আশেপাশে ভীড় করে থাকা পরস্ত্রীদের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। বাদ্যযন্ত্রের উদ্দাম তালে তাল মিলিয়ে দলবেঁধে পুরুষেরা ইয়াকে নাচতে শুরু করে বৃত্তাকারে। নৃত্যরত অবস্থাতেই বিভিন্নরকমের যৌনভঙ্গি প্রদর্শন করে।

ইয়াকে নৃত্যের মাধ্যমে প্রত্যেক ওডআবে পুরুষ মাঠের চারপাশে ভীড় করে থাকা পরস্ত্রীদের বোঝাতে চেষ্টা করে যৌনসঙ্গী হিসেবে সেই শ্রেয়। এই নৃত্যের সময় পুরুষরা ইচ্ছে করে তাদের দাঁত বের করে রাখে। যাতে তাদের অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী দেখায়।