Thursday , March 4 2021

পিপলস লিজিংয়ের ২৮০ ঋণখেলাপিকে হাইকোর্টে তলব

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর ঋণখেলাপি ২৮০ জনকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই নির্দেশনা অনুসারে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৪৩ জনকে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি অবশিষ্ট ১৩৭ জনকে হাজির হয়ে আদালতের কাছে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ২৮০ জনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তা জানাতে দুদককে শোকজ করেছেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে দুদককে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রকাশিত লিখিত আদেশে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি একই বিষয়ে হাইকোর্ট এ বিষয়ে মৌখিক আদেশ দিয়েছিলেন।

আদালতে কোম্পানির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান। ওইদিন তিনি জানিয়েছিলেন, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড কোম্পানি অবসায়ন প্রসিডিংয়ের মধ্যে আছে। আদালত এ কোম্পানির ঋণগ্রহীতাদের তালিকা চেয়েছিলেন। আমরা সে তালিকা দিয়েছিলাম। সেই তালিকা থেকে সর্বনিম্ন পাঁচ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ঋণখেলাপি এমন ২৮০ জনকে শোকজ করেছেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এদিকে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) অর্থ আত্মসাতের ঘটনা উদঘাটনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থ কর্মকর্তাদের নামের তালিকা চান হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কর্মরত সেসব কর্মকর্তার নাম, পরিচয়সহ ওই তালিকা ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট পিকে হালদারের দেশে ফেরত আসতে কোনো রকম গ্রেফতার না করার নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করে তার প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জানিয়েছিলেন- পিকে হালদার কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরতে চান, তা আইএলএফএসএল লিখিতভাবে জানালে সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেয়া হবে। গত ৯ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পরবর্তীতে পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টকে জানানো হয়। পিকে হালদারের প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল’র পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

সার্বিক দিক বিবেচনার পর পিকে হালদারকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পিকে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের আইজি এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারে থাকাবস্থায় তিনি যেন অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান সে বিষয়ে সুযোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে আইএলএফএসএলের করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। তবে পরে আর তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে ফেরেননি।